মানুষের জীবনে প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহ তাআলার নেয়ামতে পরিপূর্ণ। এসব অগণিত নেয়ামতের আলাদা আলাদা শুকরিয়া আদায় করে শেষ হবে না। এ কারণেই প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতে আল্লাহর যাবতীয় নেয়ামত থেকে যেন দূরে যেতে না হয়, সে জন্য আল্লাহর কাছে একান্ত প্রার্থনা করেছেন। হাদিসে এসেছে-হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর




রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দোয়ার এটিও একটি ছিল যে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ وَفُجَاءَةِ نِقْمَتِكَ وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নেমাতিকা ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা ওয়া ফুঝাআতি নিক্বমাতিকা ওয়া ঝামিয়ি সাখাত্বিকা।’মানুষের উচিত সব সময় প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো দোয়াটির মাধ্যমে

যাবতীয় অন’ষ্টি থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি তার নেয়ামত লাভের দোয়া করা। আল্লাহ তাআলা মু’সলিম উম্মাহকে কুরআন-সুন্নাহর মাসনুন দোয়াগুলোর মাধ্যমে রহমত ও নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন।অবিশ্বাসীরা পরকালে যেসব বিষয়ের আকাঙ্ক্ষা করবে মানুষের এ জীবন শেষ নয়, আরেকটি জীবন আছে। তা হলো পারলৌকিক জীবন। সে




জীবনে মুমিনরা সুখ-শান্তিতে জান্নাতে বসবাস করবে। আর অবিশ্বাসীরা জাহান্নামের কঠিন শা’স্তি ভোগ করবে। বিচার দিবসে শা’স্তির মুখোমুখি হওয়ার পর তারা কিছু বি’ষয়ের আকাঙ্ক্ষা করবে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাদের কাঙ্ক্ষিত কয়েকটি বি’ষয় হলো—এ কাজ শেষ হলে সব জীবজন্তুকে আদেশ করা হবে ‘মাটি হয়ে যাও’। তখন সব

জীবজন্তু মাটি হয়ে যাবে। অবিশ্বাসীরা এই দৃশ্য দেখবে, আর তাদের নিশ্চিত জাহান্নামি হওয়ার বি’ষয়ও বুঝবে। তখন তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, হায়! আমরাও যদি মাটি হয়ে যেতাম, তাহলে আমরা হিসাব-নিকাশ ও জাহান্নামের শা’স্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতাম। (সুরা নাবা, আয়াত : ৪০; তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন)২. নেক কাজ করা : পার্থিব জগৎ হলো




নেক অর্জনের সময়। কিন্তু এ জগতে নেক কাজ না করলে পরকালে কঠিন আজাব ভোগ করতে হবে। অবিশ্বাসীরা বিচার দিবসে যখন বুঝতে পারবে পার্থিব জগতে তার কী করা উচিত ছিল আর সে কী করেছে, তখন নেক করার আকাঙ্ক্ষা করবে। কেননা পরকাল কর্মজগৎ নয় প্রতিদান জগৎ। তারা বললে, ‘হায়! এ জীবনের জন্য যদি কিছু আমি আগে প্রেরণ

করতাম।’ (সুরা ফজর, আয়াত : ২৪)৩. আমলনামা না দেওয়ার : মানুষ পার্থিব জীবনে যত ধরনের কাজ-কর্ম করে সবই লেখা হয়। দুই কাঁধের ফেরেশতাদ্বয় তা লিপিবদ্ধ করেন। বিচার দিবসে ব্যক্তির সামনে তা পেশ করা হবে। মুমিনের আমলনামা দেওয়া হবে ডান হাতে, আর কাফির-মুশরিকের আমলনামা দেওয়া হবে বাঁ হাতে। বাঁ হাতে আমলনামা




পেয়ে সে আকাঙ্ক্ষা করে বলবে, ‘হায়! আমার হাতে এই আমলনামা দিয়ে সবার সামনে লা’ঞ্ছিত ও অ’পমানিত না করে যে শা’স্তি দেওয়ার তা দিয়ে ফেললেই ভালো হতো। (সুরা হাক্কাহ, আয়াত : ২৫)৪. অসৎ লোকের বন্ধু না হওয়া : পার্থিব জীবনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব অত্যধিক। তবে বন্ধু নির্বাচনে মুমিনের দেখা উচিত তার মধ্যে ধার্মিকতা আছে কি না। আবু

হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষ অভ্যাসগতভাবে বন্ধুর ধর্ম ও চালচলন অবলম্বন করে। তাই কিরূপ ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা হচ্ছে, তা আগেই ভেবে নেওয়া উচিত। (সহিহ বুখারি) আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো আমাদের বৈঠকের বন্ধুদের মধ্যে কারা উত্তম? তিনি বলেন, যাকে

দেখে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়, যার কথাবার্তায় তোমার জ্ঞান বাড়ে এবং যার কাজ দেখে পরকালের কথা স্মরণ হয়। (তাফসিরে কুরতুবি)যে দুই বন্ধু পাপ কাজে সম্মিলিত হয় এবং ইসলামী শরিয়তবি’রোধী কাজে পরস্পরকে সাহায্য করে, তাদের সবার বিধান এই যে, বিচার দিবসে তারা এই বন্ধুত্বের কারণে কা’ন্নাকাটি করে বলবে, ‘হায়! আমার দুর্ভাগ্য,

আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।’ (সুরা ফোরকান, আয়াত : ২৮)৫. রাসুল (সা.)-এর পথে চলা : যারা শেষ নবী (সা.)-কে জীবদ্দশায় পেয়ে তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি এবং পরবর্তীতে যারা শেষ নবী (সা.)-এর আগমন বার্তা শুনে তাঁর আনীত জীবনব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তারা বিচার দিবসে আফসোস করবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর সেদিন জালিম




আপন হস্তদ্বয় কর্তন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রাসুলের পথ অবলম্বন করতাম। (সুরা ফোরকান, আয়াত : ২৮)৬. আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর আনুগত্য : বিচার দিবসে বিচারের পর কাফির-মুশরিকদের জাহান্নামে নি’ক্ষেপ করা হবে, আর তাদের মুখমণ্ডলকে অগ্নিতে ওলটপালট করা হবে। তারা তখন আফসোস করে বলবে, ‘হায়!

আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম ও রাসুলের আনুগত্য করতাম!’ (সুরা আহজাব, আয়াত : ৬৬)৭. পৃথিবীতে ফিরে আসা : পরকালে অবিশ্বাসীদের অবস্থা অত্যন্ত কঠিন হবে। জাহান্নামের শা’স্তি দেখার পর তারা পুনরায় দুনিয়ায় ফিরে যাওয়া কামনা করবে। কিন্তু তা সম্ভব হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি আপনি দেখেন, যখন তাদের




জাহান্নামের ও’পর দাঁড় করানো হবে। তারা তখন বলবে, হায়! কতই না ভালো হতো, যদি আমরা ফিরে যেতে পারতাম; তা হলে আমরা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনগুলোর প্রতি মিথ্যারোপ করতাম না এবং আমরা বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। (সুরা আনআম, আয়াত : ২৭) ৮. শয়তান থেকে দূরে থাকা : মানুষ মূলত শয়তানের প্ররোচনায়ই

পথভ্রষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু ইহকালে তা বুঝতে পারে না। পরকালে যখন জাহান্নামের শা’স্তি প্রত্যক্ষ করবে এবং শয়তানই তাকে পথভ্রষ্ট করেছে বলে বুঝতে পারবে তখন বলবে শয়তান ও আমার মধ্যে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত, কতই না ভালো হতো। সে আমাকে পথভ্রষ্ট করতে পারত না। আল্লাহ বলেন, ‘অবশেষে যখন আমার কাছে আসবে, তখন সে

শয়তানকে বলবে, হায়! যদি আমার ও তোমার মধ্যে পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! কত হীন সঙ্গী সে। (সুরা জুখরুফ, আয়াত : ৩৮)পরকালে সব পাপীই তাদের পাপের কথা স্বীকার করবে এবং নিশ্চিত শা’স্তি দেখে মুক্তির নানা আকাঙ্ক্ষা করতে থাকবে। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা ও আফসোস তার কোনো কাজে আসবে না। লেখক : প্রধান ফকিহ, আল জামেয়াতুল ফালাহিয়া কামিল মাদরাসা, ফেনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here