রাজধানীর বাড্ডায় নিজ বাসায় এসি বিস্ফোরণ থেকে লাগা আ’গুনে দ’গ্ধ হয়ে এক তরুণের মৃ’ত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নি’হত তরুণ স্বপ্নিল আহমেদ পিয়াস (২৪) সম্প্রতি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেছেন।আ’গুন লাগার পর ছেলের চি’ৎকার শুনে ঘুম ভেঙে যায় মা শাহিনার। তিনি বলেন, স্বপ্নিল




চি’ৎকার করে বলছিল ‘মা আ’গুন লাগছে’। ওর বাবা তখন বলেন, ‘বারান্দায় গিয়ে দেখতে বলো হয়তো অন্য কোথাও আ’গুন লেগেছে।’ একপর্যায়ে তিনি স্বপ্নিলের কক্ষের বারান্দা বরাবর তাদের বারান্দায় গিয়ে দেখেন, গ্রিল ধরে স্বপ্নিল চি’ৎকার করে বলছে, ‘মা আ’গুন লাগছে, আমাকে বের কর।’সন্তানের শেষ বিদায়ের কথা জানিয়ে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে




বলেন, ভাইয়ের বাসায় দাওয়াত খেয়ে রাত আড়াইটার দিকে স্বপ্নিলকে নিয়ে বাসায় ফেরেন তারা। রাত তিনটার দিকে স্বপ্নিল তার কাছে গাড়ির চাবি দিয়ে বলেন, ‘মা আমি ঘুমাতে গেলাম’। এরপর তারাও ঘুমাতে যান। ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের (স্বপ্নিলের মা বাবা) ঘুম ভেঙে যায়। তখন স্বপ্নিল দরজা খুলে তার কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন।




কিন্তু সে বেরিয়ে আসতে পারেনি।তিনি বলেন, স্বপ্নিলের কক্ষের দরজা খোলার চেষ্টা করি। ভবনের ফায়ার অ্যালার্ম বাজিয়ে দিই। প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকি। পাশের ফ্ল্যাট থেকে একজন এসে লাথি মে’রে দরজা খুলে ফেলে। তখন ওর কক্ষে দাউ দাউ করে আ’গুন জ্বলছ। আ’গুনের তীব্রতার কারণে স্বপ্নিল আর বের হতে পারেনি। স্বপ্নিলের বাবা অ’গ্নিনির্বাপক যন্ত্র




দিয়ে আ’গুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আ’গুন নেভানোর চেষ্টাকালে তিনি পড়ে মাথায় আ’ঘাত পান। আ’গুন লাগার পর ‘ধাম’ ‘ধাম’ বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। কিন্তু শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি) সুইচ বন্ধ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমা’র সব শেষ হয়ে গেছে, আমি ওকে ছাড়া বাঁচব ন।’বাংলাদেশ ক্রা’ইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক সাধারণ




সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর একমাত্র ছেলে স্বপ্নিল। বাবাও আ’গুনের ধোঁয়ায় অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ছেলের মৃ’ত্যুর দৃশ্য স্ম’রণে বিলাপ করে বাবা বলেন, ‘ওর গেঞ্জিতে আ’গুন জ্বলছিল। বলার পর গা থেকে গেঞ্জিটি সে খুলেও ফেলেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। চোখের সামনে ছেলে




পুড়ে অঙ্গার হয়ে কুচকে গেল। বাবা হয়ে হাহাকার করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।’প্রত্যক্ষদর্শী রুমা আক্তার জানান, আ’গুন লাগার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই ছুটে আসেন। এ সময় ১০ তলার বারান্দায় আ’ট’কে পড়া স্বপ্নিল ‘বাঁ’চাও’ ‘বাঁ’চাও’ বলে আর্তনাদ করছিলেন। একপর্যায়ে তার কণ্ঠ থেমে যায়। কিন্তু তাকে বাঁ’চানো গেল না।বাড়ির




নিরাপত্তা কর্মী মো. আলম বলেন, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে তাদের (স্বপ্নিলের মা বাবা) ঘুম ভেঙে যায়। তখন স্বপ্নিল দরজা খুলে তার কক্ষ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সে বেরিয়ে আসতে পারেনি।ফায়ার সার্ভিসের বাড্ডা অঞ্চলের উপসহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ বলেন, কক্ষটির শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (এসি), টেবিলে থাকা ল্যাপটপ,




সাউন্ড সিস্টেম, আসবাবপত্রসহ মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। প্লাগ লাগানো ল্যাপটপ, কিংবা এসির সংযোগস্থল বা কক্ষের বৈদ্যুতিক লাইনে শর্টসার্কিট থেকেও আ’গুন লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি।বাড্ডা থা*নার পু’লিশ জানায়, পু’লিশের অনুমতি নিয়ে ময়নাত’দন্ত ছাড়াই স্বপ্নিলের লা’শ স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। শুক্রবা বাদ জোহর আফতাবনগরে

জানাজা শেষে স্বপ্নিলের লা’শ যশোরের অভয়নগর থা*নার নোয়াপাড়ায় তার পৈতৃক কবরস্থানে দাফন করা হবে।পারিবারিক সূত্র জানায়, একমাত্র সন্তান স্বপ্নিলকে হা*রিয়ে তার মা-বাবা পাগল প্রায়। তারা দুজনই ছেলের স্মৃ’তি নিয়ে বিলাপ করছেন। স্বপ্নিল একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বছর বিবিএ পাশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here